আবদুল্লাহ মাহফুজ অভি।।

11692794_10204539648477450_8522985760961814826_n

সুন্দরবন বাঁচানোর দাবী তুলে দেশরক্ষার মহাসমাবেশের প্রচারনায় আমরা তখন ছিলাম আজিমপুর। আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে একটু সামনে পিকাপ রাখা। স্বেচ্ছাসেবীরা সবাই নেমে লিফলেট বিতরন করছিলেন । তখন মধ্য বয়স্ক এক লোক এলো। দেখে কিছুটা শারিরিক ভাবে দূর্বলও মনে হলো। লোকটি মৃদু হেসে বললেন আমাকে আরো কিছু লিফলেট দেন আমি অন্যদের দিবো। তারপর পকেট থেকে একশ টাকা বের করে আমাদের দিতে চাইলেন। আমরা তখন টাকা নিতে অস্বিকৃতি জানাই। আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি আমরা মূলত প্রচার করতে নেমেছি তাই টাকা আমরা নিচ্ছি না। তিনি তখন কিছুটা বিব্রত বোধ করলেন বোধ হয়। চেহারায় কেমন একটা অসহায় মায়াগ্রস্থ ভাব। যেন কোন পিতা তার সন্তানের জন্য কিছু করতে না পারার কষ্ট নিয়ে তাকিয়ে আছে। তিনি বিরবির করে বললেন, ‘কিছু মনে করবেন না আমি এটা দিতে চাই, ভুল হলে ক্ষমা করে দিবেন কিন্তু আমিও কিছু করতে চাই…।’ সাথে সাথে আমরা তাকে আশস্ত করার চেষ্টা করলাম। তিনি একটু থেমে আবার বললেন ‘আমার অতো বড় বড় অট্টলিকা নাই, যা পারলাম দিলাম কিছু মনে নিবেন না’।
এরপর যদি তার টাকাটি না নিতাম হয়তো তিনি নিজের কাছে ছোট হয়ে যেতেন। আমরা তার দেয়া ১শ টাকা নেই। তখন তার হাসি আরো বিস্তৃত হলো। ধীর পায়ে হাটা ধরলেন…। আমরা আবার ব্যস্ত লিফলেটিংয়ে…। কিন্তু মাথার ভেতর একটি ভালো লাগার ছবি একে দিয়ে গেলো মানুষটি…। বুকের ভেতর আমরা সাহস ও ভালোবাসা অনুভব করি…। মানুষের এই চাওয়া… এই চেষ্টা… এই আকুতি এই আবেগ কি বিফলে যেতে পারে? এই শ্রম কি কোন কম্পানীর স্বার্থ রক্ষার জন্য, কোন রাষ্ট্রের আন্তঃরাজনৈতিক সুবিধা করে দেয়ার জন্য যে প্রকল্প করা হচ্ছে তার কাছে কি পরাজিত হতে পারে?